সায়েন্স ফিকশন সিরিজ : দ্যা গড গেম

ইন্টারপ্ল্যানেটারী সায়েন্টিস্ট বখতিয়ার উদ্দিন সাহেব গত চারদিন ধরে প্লানেট ডাটাবেইজের প্রতিটা ফোল্ডারে সার্চ করছেন, বারবার সার্চ করছেন, ২৭.৯ লাইট ইয়ার দূরের সুর্যটার গোল্ডিলক জোনে থাকা প্ল্যানেট টার ব্যাপারে কোন তথ্য ই সেখানে নাই।

তিনি সাধারনত কর্টানাকে পছন্দ করেন না, প্রাগঐতিহাসিক এই প্রোগ্রাম টা গত ৩০০ বছর ধরে প্রায় বন্ধ পড়ে আছে, আরো ৬ টা কম্পানীর ভার্চুয়াল এসিস্টেন্ট এর মার্কেট শেয়ার এত বেড়ে যায় যে কর্টানা প্রোগ্রাম কে বন্ধ করে দেয় উইন্ডোজ। এটা বাইরের খবর, ভেতরের খবর ছিলো কর্টানাকে ডারপা কিনে নেয়, নিজেরা সেটার উপর কাজ করতে থাকে।

যদিও আধুনিক ভার্চুয়াল অ্যাসিস্ট্যান্ট দের তুলনায় কর্টানার “বুদ্ধি” হাটুতে, তবে এটার নানা অসুবিধার মাঝেই একটা সুবিধা ছিলো ও বড় হয় না।

এক কথায় বললে ওর শেখার ক্ষমতা নেই, অন্যরা যেখানে সিংগুলারিটির অধীনে কাজ করায় প্রায় সবকিছু জানে, প্রায় প্রতিটা মানুষের আচরন, কাজের ধরন সব যানে, সেখানে কর্টানা কে যতটুকু শেখানো হয়েছে সে তাতেই চলছে।

এই নির্বুদ্ধিতা কে কয়েক বিলিয়ন ক্রেডিট দিয়ে কেনা সরকারের বোকামী আবার চালাকিও! কর্টানা শেখে না, সে সেকালের সাই-ফাই মুভিতে দেখানো ভয়াবহ হয়ে উঠতে অক্ষম, তার কাজ সিম্পলী প্রশ্নের উত্তর দেয়া। ডিফেন্স খাতে এরকম কিছুই সেইফ। যেমন ধরেন কর্টানা এয়ার ডিফেন্সে কোন সমস্যা খুজে পেলে একসাথে সবগুলো কমান্ড সেন্টারে তথ্য পাঠায়, সেখানে ৩ জন অপারেটর এর পার্মিশন পেলে তখন সে একশন নেয়।

অথচ এয়ারফোর্সের নতুন আর্টিফিশিয়াল ইন্টিলিজেন্স অনেকটাই জেনারেল ইন্টিলিজেন্স হয়ে উঠেছে, এনামী জোনে সেগুলো একটিভ থাকলে টার্গেট ডিটেক্ট করা মাত্র সবথেকে কম খরচে টার্গেট কে নিউট্রলাইজ করতে যা করার সে একাই করতে পারে কোন রকম হিউম্যান লস ছাড়াই। কিন্তু দেশের প্রতিরক্ষা মন্ত্রালয় চায় নি হাইড্রনিউক গুলো মানুষের পার্মিশন ছাড়াই একটিভ হয়ে যাক, সেই কারনেই কর্টানা কে কেনা।

ওটা এখনো রোবোটিক ভয়েসেই কথা বলে, আদিম একটা প্রানীর মত। বখতিয়ার সাহেবের ভুরু কুচকে আছে, তিনি বেশ ক্ষুধার্থ, তিনি বর্তমানে স্পেস এজেন্সির হেড। গতবছর একটা ১৮ বর্গকিলোমিটার ডায়ামিটারের এস্ট্রোয়েড কে সফল ভাবে ভ্যানিশ করে দিয়েছে তার ফর্মুলা। এক অর্থে তিনি একজন সুপারহিরো। তাকে নিয়ে সিনেমা হবে, গসিপ হবে, তিনি কেনো মাল্টিভিট ছাড়া কিছুই খান না, তা নিয়ে ডকুমেন্টরী হবে। তা না হয়ে তাকে এই এজেন্সীর হেড করে একটা চেয়ারে বসিয়ে রাখা হয়েছে এই বুড়ো বয়সে!

কর্টানা

-: হ্যালো ডাঃ বখতিয়ার। আপনি আজ কেমন বোধ করছেন?

আমি চিন্তিত কর্টানা। আমি তোমাকে একটা ম্যাপ দিচ্ছি, পয়েন্ট করা প্লানেট সম্পর্কে যা জানো আমাকে বলো।

-: ডাঃ বখতিয়ার এটা একটা ব্লাক প্রজেক্টের প্লানেট। এটা হ্যাবিটেবল, কিন্তু কোন কারনে এটা সম্পর্কে কোন তথ্য ই আমার ডাটাবেইজে নেই একটা নাম ছাড়া। নাম টাও আমি বের করতে পারছি না, এক্সেস রেস্ট্রিক্টেড।

আমি জানি এটা ব্ল্যাক প্রযেক্ট। বায়োমেট্রিক অথোনটিকেশন চেক করে দেখো, আমার এক্সেস থাকার কথা। এটলিস্ট আমি এই এজেন্সীর চিফ।

-: এটা আমার জন্য নতুন তথ্য, আপনাকে অভিনন্দন ডাঃ বখতিয়ার।

ধন্যবাদ। এবার চেষ্টা করো প্লিজ, অন্তত নাম টা আমাকে বলো।

-: ডাঃ সিস্টেমে কোথাও একটা ভুল হয়েছে, প্লানেট টার স্ল্যাং নেম হিসেবে ব্যাবহার করা হচ্ছে “গড” শব্দটা। আর কোন তথ্য ই নাই।

কর্টানা কে আর কিছু জিগেস করে লাভ নেই। “গড” শব্দটাকে স্ল্যাং বলার কারন আছে, ২৬৭০ সালের দিকে ওটাকে ব্লাসফেমী হিসেবে নিষিদ্ধ ঘোষনা করা হয়, আর এদিকে একটা গ্রহের নামকরন করা হয়েছে গড নামে। ব্যাপার টা মজার আবার চিন্তারও। প্রাচীন কালে দেবতাদের নামে গ্রহদের নামকরন হতো। জুপিটার, মার্স সবগুলো প্রাচীন গ্রীক, রোমান দেবতাদের নাম। এখানে সরাসরি গড! ওখানে কি আমাদের থেকে উন্নত কোন প্রানী বাস করে? আমরা কোন বুদ্ধিমান প্রানীকে খুজে পেয়েছি ওখানে? নাকি ব্যাপার টা সিম্পলী কোন প্রাকটিক্যাল প্র্যাংক?

সেদিন সন্ধ্যায়-ই তিনি লর্ড রেইডেন কে নক করেন। তিনি ৪১ জন লর্ড এর একজন। তারাই আপাতত বুদ্ধা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন, এদের মধ্যে লর্ড রেইডেন সবথেকে প্রবীন, ১৮৯ বছর বয়সে তিনি বেশ বুড়িয়ে গেলেও তার ফটোজেনিক মেমরী এখনো অসাধারন। তার আইকিউ সম্পর্কে পাবলিক্যালী কোন তথ্য না থাকলেও তাকে ডাঃ বখতিয়ার অসম্ভব শ্রদ্ধা করেন। লর্ড রেইডেন মাছ ধরছিলেন যখন ফোন করা হয়। তিনি সরাসরি তার ফার্ম হাউজে চলে যেতে বলেন ডাঃ কে।

নানা ব্যাপারে গল্পগুজব করার পর ফাইনালী ডাঃ তাকে জিগেস করেন গড সম্পর্কে। শুনে ছেলেমানুষী ভাবে অট্টহাসিতে ফেটে পড়েন লর্ড রেইডেন। হাসতে হাসতেই জিগেস করেন ওটা নিয়ে গত ১০০০ বছরেও কেউ মাথা ঘামায় নি, তুমি কেনো বখতিয়ার?

ওটা একটা হ্যাবিটেবল প্লানেট, হিউজ মাইনিং পটেনশিয়াল রয়েছে সেখানে। সেটা কেনো ব্ল্যাক লিস্টেড লর্ড? গড শব্দটাই বা কেনো?

লর্ড রেইডেন মাথা নিচু করে তীক্ষ্ণ চোখে সরাসরি ডা বখতিয়ারের দিকে তাকান। ফিসফিস করে বলেন “ওখানে খেলতে গিয়েছিলাম” প্রায় ৯০০ মানুষ কে ওখানে পাঠাই আমরা। ওটা আমাদের চতুর্থ হোম প্লানেট হবার কথা ছিলো। ”

ডাঃ বখতিয়ার এবার চমকে যান। ৯০০ মানুষ! তাদের কি হয়েছিলো লর্ড? কোন এক্সিসটিং অর্গানিজম তাদের উপর আক্রমন করে বা কোন সিস্টেমেটিক ত্রুটির কারনে মারা গিয়েছিলো তারা?

লর্ড রেইডেন এর গলা ভারি হয়ে আসে। না, তোমার বডিগার্ড সেন্টিনাল যন্ত্র টা যে মাইক্রো নিউক্লিয়ার রাইফেল টা ব্যাবহার করে সেটার শক্তি সম্পর্কে ধারনা আছে? আমরা ইউনিভার্সের ফুড চেইনের একেবারে উপরে বখতিয়ার, কোন অর্গানিজম আমাদের ক্ষতি করার ক্ষমতা রাখে না। মাইক্রো অর্গানিজম ও না, কয়েক শতক আগেই আমাদের এন্টিবডি মারাত্বক শক্তিশালী করে ফেলা হয়েছে।

তাহলে কি হয়েছিলো লর্ড? আমি বেশ কিউরিয়াস, দয়া করে আমাকে সাহায্য করুন। আমরা ওখানে মানব জীবনের বীজ রেখে আসি বখতিয়ার। ৭ শ্রেনীর একজন লর্ড, লর্ড লিন কুয়ের নির্দেশে কাজ টা করা হয়। উনি গড গড খেলতে বসেছিলেন, রেজাল্ট টা ভালো হয়নি। আমাদের উন্নত মস্তিষ্ক ওদের কোন কাজেই লাগে নি, অথবা ওরা কাজে লাগাতে পারে নি। ১৫০০ বছরেও ওরা ভাষা আবিষ্কার করে নি, অস্ত্রের ব্যাবহার শিখেনি, বড়ং আমাদের রেখে আসা কিছু লাইফ সেভিং ইকুয়েপমেন্ট কে কেন্দ্র করে একটা ধর্মের মত কিছু বানিয়ে বসে আছে। ওগুলো সিম্পলী মানুষের শরীরে একটা আদি এপের জীবন। অমনিভারাস, ওরা ক্যানিবালিজমে আসক্ত।

এরপর? আমরা কি করি ওদের সাথে?

আমরা কিছুই করি নি। লর্ড লিন কুয়ে সিম্পলী পুরো প্রজেক্ট টা শাট ডাউন করেন। সব ডাটা সরিয়ে ফেলেন, ওটা একটা ব্ল্যাক প্রজেক্ট হয়ে থাকে। ৭ শ্রেনীর আরেকজন লর্ড, লর্ড হ্যামেটিয়াস একরকম জোক করেই ওটার নাম দেন গড। কিন্তু এটা প্রায় ২ হাজার বছর আগের কথা, এরপর আমরা আর যোগাযোগ করিনি ওখানে?

না, এবার খানিক বিরক্তী নিয়েই বললেন লর্ড রেইডেন, গ্রহটায় কয়েক হাজার ডিটেক্টেড লিভিং অর্গানিজম ছিলো, আমরা সেখানে সো কলড মানুষদের এড করে ফুড চেইনে বিশাল ক্ষতি অলরেডী করে ফেলেছি, আমাদের যেটা করা উচিত হয়নি। আমি চাই না ওদের আরো ক্ষতি করা হোক। দ্যা আইডিয়া অফ ক্রিয়েশন, গড এগুলো ড্যাঞ্জারাস বখতিয়ার।

বিদায় নিয়ে নিজের এপার্টমেন্টে ফেরার সময় ডাঃ বখরিয়ারের কপালে গভীর চিন্তার ছাপ, তিনি কিছু ভাবছেন।

Published on: 3/15/21, 6:55 AM